Posts

Showing posts with the label গুচ্ছ কবিতা

গুচ্ছ কবিতা

Image
দৃশ্যপট কিছু পেয়েছি, হাত একেবারে খালি নয় সোনার জল অশ্রু হয়ে জেগে থাকে পলকে বিশেষ কিছু ঘটেনি কখনও, দৃশ্য সব আটপৌরে আমিই অতি নাটকীয় তবু বৃষ্টি পড়েছে, পাখি ডেকেছে, বাতাসে চুল উড়েছে যেমন প্রেমের গল্পে হয় আজকাল তোমার স্বর উঁচুতে, চোখ মধ্যাহ্ণের সূর্য, অধৈর্য্যে কুঞ্চিত ঠোঁট থেকে খসে পড়ে অপদেবতা আমি চোখ বুজি, নিজেকে বন্দি করি শীতল দৃশ্যপটে অন্ধকার পাকদণ্ডী বেয়ে ধেয়ে আসে জোনাকিরা দু জোড়া ঠোঁট নিভে থাকে মুখোমুখি দৃঢ় আচমকা জোয়ারে দুলে ওঠে নৌকো স্রোত জলদস্যু যেন তবু দুজোড়া বুক, ঘেঁষাঘেঁষি ঋজু বনবিথী জুড়ে পাখিদের বাস মাথার ওপর নিবিড় শূন্যতায় ঘুর পাক খায় বাজ দুজোড়া হাত পাশাপাশি সংকল্প #পরজন্ম পর জন্মে কবি হব        এ জন্মে তাড়া নেই হাতে আমার অনেক সময় বিশেষ রূপে খ্যাত যারা                    তারা হুড়োহুড়ি করুক উঠে পড়ুক চলন্ত ট্রেনে ঝুলন্ত বাসে আমি হাটবো ধীরে সুস্থে পা ফেলার শব্দ শুনে বাতাসের অবকাশে পৃথিবীকে দেওয়ার নেই কিছু নেওয়ার আছে পৃথিবীর থেকে তাই নিয়েছি পিছু #বর্ষা ফুলটা ভিজছ...

গুচ্ছ কবিতা

Image
মিষ্টতা ১. অলকানন্দার জল ফুটিয়ে চা খেয়েছি চার চামচ চিনি সহ ওভাবে তাকালেন যে? হ্যাঁ আমি মিষ্টি বেশি খাই স্বাদহীন জোলো সম্পর্কেও মুঠো মুঠো চিনি দিয়ে দেখেছি, নিমেষে বদলে যায় গন্ধ মাসকাবারি ফর্দে তাই নুন এক চিনি দুই ২. সংসারে নুন আছে                    চিনির অভাব অথচ নুন চিনি দুটোই এক ফর্দে আসে মাসের প্রথম প্রথম                                   নুনের ব্যবহার বেশি                               অল্পতেই কাজ হয়                         কৌটো ভর্তি তাই                  চিনি দিই মুঠো মুঠো                   শাশুড়ির হাতে               শ্বশুরের পাতে         ...

একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা

Image
একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা ১. তোমার বুকে কাঁচা মাটি হাঁটতে গিয়ে টের পেয়েছি, পা থাকে না বশে আমার চলনে তুমিও ব্যাকুল, খাও দিব্যি শুধু জানতে চাই জখম করার সময় এত নিঠুর হলে কী করে? ২. সমস্ত ঘা জেগে আছে, ঘুমায়নি কত রাত পথ্য ফিরিয়ে দিয়েছি, সেবা ফিরিয়ে দিয়েছি শুধু তুমি বুঝবে না বলে ক্ষতর সুড়ঙ্গ গভীর কত যে আঘাত দিয়েছ, বাঁচিয়ে রেখেছি অবিকল প্রথম দিনের মতো ৩. উপত্যকায় ঘর তোমার পাথরের মতো নিশ্চল চোখ, যতবার তাকাই আহত হই, ফিরে আসি তটে জেনো, শামুক আমি খোলস সর্বস্ব প্রাণী আর নেই পরিচয় তবু মাংসল সম্মানটুকু গুটিয়ে রাখি ওরই ভিতর ৪. নদী বইছিল স্রোতের মুখে সূর্যোদয় সূর্যাস্ত সব চলছিল নিয়ম করে শহরে কাক উড়ছিল রোজের মতো খিদেও পাচ্ছিল সময় সময় হঠাৎ অবোধ তুমি, শিশুর মতো কেঁদে উঠলে উফ ! শিরা ছিঁড়ে বেরিয়ে পড়ল নদী হতাশায় ভেঙে পড়ল রোদ পূর্বপশ্চিমে কাঁদলে কেন তুমি? জানো না , পুরুষের কান্নায় পৃথিবীর পাপ বাড়ে! ৫. হাতঘড়িতে সূর্য ডুবলে আমার ছাদের বাঁদিকে আগে সন্ধে হয়, ডানদিকে কিছু পরে এ সময় জানলার ঝাপসা কাঁচগুলো রোছ ঝন্ ঝন্  করে বলে, "সন্ধে মানে মায়া, চোখের আরাম, এই...

গুচ্ছ কবিতা

Image
গাছেদের রক্ত দাও  তোমার বাঁচার রসদ যারা নিঃশর্তে জোগায় উচিয়ে তলোয়ার তুমি ধরছো তারই গলায়? কাটতে হলে আনাজ কাটো                রান্না করো                              আনন্দে খাও কেউ তোমায় বাঁধা দেবে না কিন্তু খবরদার! গাছ কেটো না                                  তফাৎ যাও                                           তফাৎ যাও সমাজের সব অসুখ বিসুখ খেলার ছলে শুষছে তোমার যত বিষ-নিঃশ্বাস ওদের শরীরেই মি শ ছে ত...

গুচ্ছ কবিতা- ৪টি

Image
অ-সুখে ১. সারারাত শরীরে কালাজ্বর। মনে হয়েছে কেউ আমাকে বাক্স বন্দি জোঁকের ভিতর আঁটকে রেখেছে। গলা শুকিয়ে গেছল, একঢোঁক জল চেয়েছি জোঁকের কাছে। ওদের কান নেই, শুনেনি আমার ডাক। সমব্যথী বোতল নিজেই এগিয়ে এসেছে, কম্পনরত হাত তবু খুলতে পারেনি ছিপি জ্বর হলে আমার খুব কষ্ট হয়, চোখের কোণা থেকে ছলকে ওঠে নোনাজল। বার বার হাঁতড়েছি সেল ফোন, ফোনের ভিতর একটা লক্ষ্মী পেঁচার নম্বর ফোনের ভিতর অভিজাত ফার্মেসি জ্বর হলে কে যেন বিছানার পাশে আয়না রেখে যায়। ২. সেদিন সংক্রান্তি। আলো আবছা হওয়ার পর শব্দতরঙ্গে মিলিয়ে গেল শাঁখের ফুঁ-এর ছায়া বনতুলসি বলল, তুমি পবিত্র নারী তাই তোমাকেও আমি গাছ বলেই ডাকবো আমি সম্মতিসূচক ঘাড় নাড়লাম আসলে মনে মনে কড় গুনে অঙ্ক কষছিলাম সব গাছেরই তো শাখাপ্রশাখা থাকে আমার মতো কজন আর এক ডালে বাঁচে ! সব ঘরেই উৎসব হয় তাবলে সব উৎসব কি আর সব ঘরে কুলোয়? তুলসিতলায় নকুলদানা খেতে আসা লাল পিঁপড়েটা শুনে নিয়েছিল মনের কথা আহার ফেলে বলল, অনন্ত এ পথচলা কিন্তু যে যায় বলুক আমি জানি রোজকার চলায় ওর মুখটা একবার হলেও বিরাম চিহ্ন এঁকে যায়। ৩. আমার একটা গোপন চতুর্ভূজ ছিল, তার ওপ...

গুচ্ছ কবিতা ( গদ্য কবিতা)

Image
ইগো ইগো একটি অতিকায় মাছ সুযোগ পেয়েই গিলে নিলো                                  সম্পর্কটাকে চেনা ডাক, পোষা রাগ সব বঁড়শি সুদ্ধ গিলে খেল তুমি আর আমি পাড়ে দাড়িয়ে জল খেলিয়ে খেলিয়ে সাহায্য করলাম ও খেয়ে গেল আমাদের অতীতের গাছ বর্তমানের ফুল, ভবিষ্যতের ফল বেপথে গ্রাম-শহর কোনো পুকুরেই                                         স্রোত থাকে না আমি গ্রামের কিন্তু স্রোত তুলেছি অবাধে ঝাঁপিয়ে পড়তাম উঁচু টিলা থেকে জলের ওপর একটা ঢেউ আঘাত পেলেই                                     নিমেষে বহু হয়ে যেত আমার বেহায়াপনায় পুকুর ভেঙেছে পাড়                              বইয়ে দিয়েছে জল            তাই শিখেছি একটাই জীবন তোল...