Posts

প্রেমের কবিতা - ১

Image
অথৈ আষাঢ় বুকে পাথর চাপা দিয়ে রাখতে রাখতে একদিন  বুকটাও  পাথর হয়ে হয়ে যায় পাথরের খাঁজে জল জমে  আর চোখের ভাঁজে বৃষ্টি আজ আমার গোপন অশ্রুখানি প্রকাশ্যে এল  সেই ভাঁজ ভাঙা বৃষ্টির মতো যে অশ্রুগুলো আমার একান্ত খুব ভিতরে জমা রাখি কেউ জানে না হদিশ আজ মেঘ থেকে সেই ফোঁটাটা  ঝরবে ঝরবে এমন সময় জানলার কাছে উড়ে এল একঝাঁক  চড়ুই পাখি,  যেন তোমার চোখ অমনি ঢেউ ভেঙে টুপ্ করে চোখের দুয়ার থেকে কাজল পেরিয়ে  গালের বারান্দাময়  অথৈ আষাঢ় 

সূর্য ওঠার আগে

Image
এখন অন্ধকার। পাখি ডাকেনি, বাতাসে মেশেনি রোদের গন্ধ। ছোট্ট ছোট্ট বিড়াল ছানাগুলো মায়ের কোলের ভিতরে কুঁকড়ে শুয়ে আছে। আমার বাড়ির টেপা কলটা একপায়ে দাড়িয়ে চুপচাপ বিশ্রাম নিচ্ছে, ওর মুখ দিয়ে শিশিরের মত ফোঁটা ফোঁটা জল আর ঝরে পড়ছে না। ভোর হলে প্রথম ও শব্দ তোলে ক্যাচ্ ক্যাচ্ মানে দৌড় শুরু। আজ ভোরের আলো ফোটার অনেক আগে থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছি। প্রথম সকালে তোমাকে ফোন করবো। সেই কন্ঠস্বর, আড়মোড়া, নিঃশ্বাসের শব্দ যা এখন আর কোথাও পাই না, তার অন্বষণেই কাকপক্ষী ওঠার আগে উঠেছি। প্রথম সকালে তোমার গলার আওয়াজে একটা মগ্নতা মিশে থাকে, ওই মগ্নতা নিয়ে যখন আমাকে ডাক নামে ডাকো, ভিতরটা সুখে আন্দলিত হয়ে ওঠে। আমার সুখের ঘর অনেক আগেই সেই পাখিটা ভেঙে দিয়েছে, আমি ইচ্ছে করে যার বাসা ভেঙেছিলাম খেলার ছলে। এই ছোটো ছোটো ইচ্ছেগুলো আজ কাল বুকের ভিতর কফিন খুঁজে নিয়েছে। দিনের আলো তো ফোটে কিন্তু আমার হতাশা ঘোচে না। হতাশা দূর করতে গিয়ে নিজের সাথে যুদ্ধে নামি। যুদ্ধ শেষে দেখি ডুবে গেছি আরো গভীর হতাশায়। 

বৃষ্টি কুঁড়িগুলো ফুটবে

Image
বৃষ্টি কুঁড়িগুলো এবার ফুটবে ফুটবে দিগন্তে সূর্যটা সজল হয়েছে আমি চললাম দূ্র, ঝাপসা পথে আষাঢ়কে পথ চিনিয়ে আনবো বলে তুমি মাছ ধরতে যাওয়ার আগে বর্ষাতি নিও গতবার বৃষ্টিতে ভিজে সে কি বাড়াবাড়ি ! একটানা তিন দিন জ্বর জ্বরের ঘোরে ভুল বকছিলে,                      বার বার শুধু একটা নাম, মালবিকা আমি সুজানদের ঝিঙে মাচার পিছনে লুকিয়ে শুধু কেঁদেছি জানি না এই মালবিকা কে? জ্বর সেরে যাওয়ার পর তুমি আর কখনো এই নামটা মুখে আনোনি কিন্তু আমার ভয় করে পাছে আবার তোমার জ্বর আসে ! সেই থেকে তোমাকে তোলা কাপড়ের মতো আগলে রাখি জানি একমাত্র জ্বর ছাড়া কেউ তোমাকে                        আমার থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারবে না 

কান্না পেতে শুই

Image
আমার বোতল ছাপানো আবেগ হতে পারে তুমি ব্যস্ত আমার ভাতের হাড়ি উথলে পড়া প্রেম হতে পারে তুমি ব্যস্ত আমার আকাশ ভেঙে কান্না আসে হতে পারে তুমি ব্যস্ত ব্যস্ততা মিটলে কখনও তো তুমি প্রেমিক ! তখন কেন হাত ধরো না? তখনও কেন আপেল কাটো, আঁশ বঁটি দিয়ে?

উদ্বাস্ত

Image
আমি হাঁটছি ক্রমাগত পৃথিবী ছাড়িয়ে এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে চতুর্দিকে মানুষের ভিড়, প্রকৃতি নিবিড় কেউ চিনছে না আমায়। কেউ ঘর বাঁধার জমি দিচ্ছে না একফালি আমি মরতেও পারছি না কারণ আমার ভোটার কার্ড নেই             আমার আধার কার্ড নেই

নিবেদন

Image
ঈশ্বর, আমার আঠাশ বছরের সমস্ত পাপ নিয়ে নতজানু হয়ে বসেছি তোমার পদতলে আমি তোমার ভক্ত নই। যোগ আমি বুঝি না, মোক্ষ আমার চাই না আমি ভীষণ ভাবে ভাতের গন্ধমাখা মানুষ হিসাবেই সুখী ! ভাবছো তবে কীসের দাবিতে আমি তোমার শরণাপন্ন হলাম? ঈশ্বর তুমি শুধু একটি বর আমায় দিও যখন সে আমার কাছে আসবে যেন আমাকেই খোঁজে যখন সে আমাকে আদর করবে, তখন যেন কারো স্বামী নয়, কারো পিতা নয় শুধুমাত্র আমার পুরুষ হতে পারে। ঈশ্বর আমি উত্তরণ চাই না ! আমাকে তুমি চিরকাল দেহজ আগুনে ভীষণ ভাবে পুড়িও ঈশ্বর নির্বাক ! ঈশ্বর সাতজন্ম ধরে আমার তৃষ্ণার বুকে জল নয়, রক্ত নয়, কেবল একটা বিদ্রুপের হাসি রেখে যায়

কান্নায় ভাঙি কাপ প্লেট

Image
আমার ভিতরে একটা জল ভর্তি বোতল থাকে তুমি তৃষ্ণার্ত জেনে খুলে দিয়েছি বোতলের মুখ গড়িয়ে পড়েছে সব জল তোমার খালি বোতলে এখন নিঃস্ব আমি। আমাকে পানীয় জল চেও না শূণ্যতা ঢাকতে ঘাস বসিয়েছি কলিজায় ঘাসে ফুল হয়েছে ছোটো ছোটো, ওদের মুখ তারাদের মতো প্রজ্জ্বল তবুও শূণ্যতা ঢাকা পড়েনি শুধু রঙ বদলেছে বিশ্বাসের, বিশ্বাসের রঙ কালো হলে তার আদল হয় অপরিচিতের ন্যায় অপরিচিতকে সহজে ভরোসা করা যায় না সর্বদা মনে হয় কি জানি ভিতরে কী আছে ! প্রকাণ্ড মৃত্যু -গহ্বর কিংবা জালি-মেঘ আমি কান্নায় ভাঙি কাপ প্লেট, দ্বিধায় ভাঙি বাঁধ ভরোসা, বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ুক, বন্যায় ডুবুক ছাদ