Posts

ভালোবাসা

  'ভ' ছোটোবেলায় 'ভ' শিখতে আমার অনেক বেশি সময় লেগেছিল। আবছা মনে আছে প্রথমে 'অ' লিখে আগে তার হাতল মুছতাম তারপর গলার কাছটা মুছে উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। এইভাবেই শিখেছি 'ভ'। এখনও পর্যন্ত 'বর্ণপরিচয়' বই এর মতো সুন্দর করে 'ভ' আমি লিখতে আমি শিখিনি। শুধু চিনেছি বর্ণটাকে। সরলার্থে জেনেছি 'ভ' মানে ভয়, 'ভ' মানে ভালোবাসা ; মর্মার্থে জেনেছি, ভালোবাসাতে ভয় কিংবা ভালোবাসা হারাতে।

চিরন্তন

চিরন্তন ১. মানুষ অনুভূতি থেকে যে কথা দেয় একদিন যুক্তির দ্বারা সে সমস্ত কথা ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেয় তাহলে অনুভূতি কি খুবই আপেক্ষিক? যা সহজেই মরশুম বাতাসের মতো বদলে যায়! চিরকালীন বলে কিছুই কি নেই? ২. মানুষ ফুলের পাপড়ির মতো আলতো করে যে হৃদয় স্পর্শ করে, একদিন সেই বুকেই ধারালো কুঠার পুঁতে দেয়! এই নির্মম সত্য আমি সহজে জেনেছি। তুমিও একটা একটা করে জমানো সমস্ত পেরেক পুঁতে দিও আমার বুকের বামপাশে, আমি শব্দ করবো না! শুধু অনুরোধ, ওইখানেই তোমার যে ছবিখানি যত্নে রেখেছি এতকাল সেটিকে অবিকৃত রেখো।

অশ্রু সরোবর

 অশ্রু সরোবর ১. প্রচণ্ড ভিড়েও কি নিদারুণ একা হয়ে যায়! চারপাশে অজস্র মানুষ, কত আলো, কত হাসি তবু চোখ ছলকে ওঠে। অশ্রু গোপন করাও এক শিল্প, সকলে পারে না চোখ ভেঙে বেরিয়ে আসা জলকে ঝরতে না দিয়ে আবার চোখের মধ্যেই বিলীন করে দিতে। যারা এটা পারেন ঈশ্বর তাদের নামেই একটি চিরকালীন অশ্রু সরোবর লিখে দেন ! জানবেন দক্ষ মানুষেরা চিরকাল লৌকিকতার আড়ালে একটি টলমলে দীর্ঘশ্বাস চাপা রাখে। ২. জলন্ত সূর্যও একসময় নিস্তেজ হয়ে আসে নরম মোমের মতো গলে যায় প্রশ্রয় পেলে শুধু এ হৃদয় পোড়ে অনন্তকাল এক বিচ্ছেদে ; অশ্রু অন্তহীন! ৩. মৃত্যুর অপেক্ষায় পাথর সাজিয়েছি থরে থরে সুদৃশ্য পাহাড় তৈরী হয়েছে তবু মৃত্যু আসেনি অশ্রু দিয়ে একখানি ঝর্ণা গড়ে দিতে পারলেই আমার ছুটি এই নশ্বর পৃথিবী থেকে তুমি এই পাহাড়ের কোলেই ঘর বেঁধো সময় পেলে আর একবার ঝর্ণার জলে আমার পায়ের পাশে পা ডুবিও

সেলসম্যান

সেলসম্যান অলি গলি এপাড়া ওপাড়া পেরিয়ে অন্ধকার ঘুরপথে এসে দরজা ঠক ঠক করলো মিথ্যে, তুমি এক দৌড়ে কপাট খুললে, হাসি হাসি মুখে নিয়ে গেলে অন্দরে। স্কেলের মতো সোজা একহাত কংক্রীটের পথ পেরিয়ে সূর্যকে মাথায় নিয়ে এলো সত্য, একটানা কলিং বেল বাজালো অথচ তুমি দরজা খুললে না! বললে, 'সেলস ম্যান'! তবু অনন্তকাল নীরবে 'ও' দরজায় দাড়িয়ে রইলো তোমার জেগে ওঠার অপেক্ষায়।

সূর্যাস্তে

সূর্যাস্তে আমার অনিচ্ছেই বেলা বয়ে যায় সেতু পেরিয়ে ইচ্ছাময়ীর মন্দিরের চুড়োয় আমি থেমে গেছি বহুদিন, জ্যোৎস্না ভাঙা ঝর্ণার জলে আমার পায়ের পাশে যেদিন ডুবে গিয়েছিল শীতকাল তবু কোন ষড়যন্ত্রে গ্রীষ্মকালীন ফুল ফোটে, প্রতি সূর্যাস্তে বয়স বেড়ে যায়। আবাহন প্রিয় মানুষ ছেড়ে গেলে এমনকি মারা গেলেও প্রকৃতিতে কোনো বদল আসে না! সূর্য ওঠে অস্ত যায়, ফুল ফোটে ঝরে যায়, নদী বয়ে যায় মোহনার দিকে, সব নিয়ম মতো চলে! আমাদের জীবনটাই শুধু শূন্যস্থান পূরণের জন্য বৃথা হাহাকার করে মরে। সব শূন্যস্থান পূরণ হয় না  জেনেও মন ব্যথা পেতে বার বার কাঁটা বনে হেঁটে আসে। চিহ্ন বহুদিন ভেসেছিলে তুমি আমার চেতনাতে নরমটুকু ছুঁয়েছিলে কাঁটার মতো, ব্যথা হতো তবু টের পেতাম তুমি আছো আমাকেই বিঁধে শিকড় ছিঁড়ে কেউ উপড়ে নিল তোমায় আমার কেবল ব্যথার স্মৃতি রইলো জেগে। ভ্রম শব্দ জমাট বেঁধে পাথর আর কথা জমে পাহাড় হয়েছে তাই বহুদিন কবিতা নয় চলছে ঝর্ণা খোদাই পর্ব। উন্মুক্ত ঝর ঝর এসে বলে যায়, পতনের ব্যথাগুলো গুনতে শেখো, ওইটিই আসল অঙ্ক।

হেমন্তের দিনগুলো

  হেমন্তের দিনগুলো হেমন্তের দিনগুলো শোকময় যেদিকে তাকাই শুধু অনন্ত বিচ্ছেদ! আমিও কি বেঁচে আছি? টের পাই না আর জীবন আকুতি কবে কোন ধুলোয় মিলিয়েছে মনে নেই সে কথা! চোখগুলো মরা মাছের মতো নির্জ্বল পারলে তুমিই কানকো উল্টে একবার দেখে নিও জীবন বাকি আছে কি না! ছুটি হাত আলগা করে দিলাম যেতে পারো তুমি যতদূর চাও ক্লান্ত হলে নদীর ছায়ায় বিশ্রাম নিও আমিই পাশ দিয়ে বয়ে যাব নদী হয়ে তৃষ্ণা পেলে এক আঁজলা জল পান করে নিও। জীবন-মৃত্যু জীবন মৃত্যুর কিনার আমি দেখেছি দূর অবধি জল।, কোনো সাঁকো থাকে না শরীর মন এতটাই বাধ্য যেন পুতুল নাচের আসরআ পন পর কেউ কোত্থাও নেই। অদৃশ্য ঘড়ির দোলন, শশব্যস্ত কিছু ছায়া চলাফেরা করে। মাঝে মাঝে চোখ কপালে ওঠে বিকার আসে পুরোনো বিছানা খুঁজে খালি হাতে ফিরে যায়। শবদেহ বিয়োগ শিখছি নিরন্তর ছোটোবেলায় দাগ মুছে এখন শোক গিলে বিয়োগ বুজছি ভীষণ ভালো জীবন থেকে আয়ু মুছলে কি আর পড়ে থাকে? শুধুমাত্র শবদেহ! শালুক ফুল  মনে মনে একশো বার ডাকার পর তবেই তোমার জানলা অবধি আসতে পেরেছি, শালুক ফুল। কাঁপা কাঁপা গলায় অতি ক্ষীণ স্বরে তোমাকে একটি বার ডাকতে আমার যে কত লক্ষ বছর পার হয়ে যায় তা যদি টের পেতে, অ...

বৃষ্টি, নদী আর ঘাসফড়িং

বৃষ্টি নদী আর ঘাসফড়িং  বৃষ্টি আর নদী দুজন চিরকালের বন্ধু। রাত গভীর হতেই বৃষ্টি ঘুমিয়ে পড়লো। ওর ঘাসের বিছানা পাতা তাই ঘুম এলো সহজে। নদীও ক্লান্ত ভীষণ, ঘুমিয়ে পড়লো চেনা অববাহিকায়‌। বৃষ্টি কথা রেখেছে ছুঁয়েও দেখেনি নদীর বুক, টেনে দেয়নি ঘুমন্ত নদীর গায়ে ছাপা ফুলের চাদর।নদীকে দিন-রাত  বইতে হয় সংসারের জল তাই তার রাতই আসে দুচোখে ঘুম নিয়ে। বৃষ্টি ঘুমালো, নদী ঘুমালো। কিন্তু অলক্ষে একটা ঘাস ফড়িং জেগে ছিল ওর ঘুম এলো না ! ঘাসের শাখাপ্রশাখায় সে উড়ে বেড়ালো, ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ালো সারারাত, খুব পরিশ্রম করলো তবুও ঘুম এলো না কিছুতেই। ঘাস ফড়িংটা জানে যাদের সহজে ঘুম আসে তাদের ওপর ভাগ্য দেবতা প্রসন্ন।