Posts

সরালী পাখির পালক

Image
 সরালী পাখির পালক সংকটের সাথে ঘুমের বিরোধ। একজন এলে অন্যজন নীরবে চলে যায়। এই সময়গুলোতে নিজেকে শীতল রাখি, চোখ খুলে রেখে ভাবনায় ঘুমিয়ে নিই খানিক। বিরক্তি ও অরুচিকর সমস্ত স্মৃতির ঝাঁপি তখন বন্ধ। প্রবল ভাবে শুধু মনে করি আমার চোখ এ জীবনে কত বার সুখী হয়েছে। সরালী পাখির পালক ঠিক কতবার উড়ে এসেছে পল্লবিত আঁখির ওপ‍র! একে একে ভেসে ওঠে ছবি। মন যেন রূপকথার মায়া আরশি। প্রথমেই এক নদীর মুখ জুঁইফুল হয়ে ফুটে ওঠে হাতের পাতায়। যে নদী লাল রঙের নরম জিভ দিয়ে শুষেছিল আমার স্তন। তারপর আরশিতে ভেসে ওঠে পাহাড়, বিস্তীর্ন সবুজের গড়াগড়ি খেলা। কাঁচ ভাঙা ঝর্ণার জলে হেঁটে যায় বাতাস-পুরুষ। তার আদুল গায়ে লেগে থাকে স্পর্শকাতর মেঘ। পিটিস ফুলের মতো তার মুখ  ফুটে ওঠে ঊরুভূমিতে, মেটে রঙের জিভ বের করে যে শুষে নিয়েছিল আমার যোনি। তারপর ফুলের ছাদ, লতার দেওয়াল, পাতার জানলা দিয়ে উড়ে যায় এক ঝাঁক ছাতারে। পিছু ডেকে যায় কত বেনামি ডাক, গুমনাম স্পর্শ। চোখের তারায় ফুটে ওঠে ঝুমকোলতার বাড়ি। যা বুক দিয়ে আগলে রাখে এক জোড়া সাদাকালো হাত। অবশেষে সংকট চলে যায়, হিসেব মতো ঘুম আসে। ইচ্ছেশক্তি পায়ের নীচে শিকড় হয়ে জন্মেছি আকাশ-নীলে অপার মেঘ...

চেতনা প্রবাহ মূলক কবিতা

Image
শ্বাসরোধ স্বপ্নের ভিতর রোজ ডুবে যাই আমি। দ্রুত জল ছাড়িয়ে যায় মাথার ওপর। জলের ভিতর যতক্ষন চোখ খুলে রাখা যায় ততক্ষন রঙিন লাগে সব। চোখ বুজলেই হাফিয়ে ওঠে ঠোঁট। বুজবুজি কাটা মাছেরা তখন আমাকে চারপাশে ঘিরে ধরে, বলে, "দম নাও বুক ভরে নয়তো জল খেয়ে ফুলে যাবে পেট।" অধীর হয়ে আমি জলবৃত্তে কার যেন পায়ে পড়ি, বলি, দোহাই তোমার আমাকে শ্বাসরোধে মেরো না।

বিচ্ছেদের কবিতা

Image
এখন বিচ্ছেদের সময় নয় আমার কোন ফুল প্রিয় তোমাকে বলা হয়নি তাই এখন বিচ্ছেদের সঠিক সময় নয়, চাকরি পেলে প্রথম দিন কি রঙের শাড়ি পরে স্কুলে যাব ঠিক করা হয়নি তোমার সাথে তাই এখন বিচ্ছেদের সঠিক সময় নয়। আমি নদী ভালোবাসি। আমার প্রিয় নদী দামোদর, তোমাকে বলা হয়নি। গঙ্গা তীরে বাস করলেও গঙ্গা দেখে আমি সুখ পাই না, আমার মনে হয় গঙ্গা নিজেই একজন সুখী নদী। জোয়ার-ভাটা, টলমলে জল, কত স্নানার্থী, পূন্যার্থীর ভিড়, কত পাপ পুণ্যের হিসাব। গঙ্গার ভীষণ মাহাত্ম্য, সে গরবিনী। একলা থাকার,  দুঃখ পাবার তার সময় কোথায়! কিন্তু দামোদর দেখলে বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। ছোটবেলায় দেশের বাড়ি আমি দামোদর তীরে কাটিয়েছি বহুদিন সেসব গল্পও তোমার সাথে করা হয়নি তাই এখন বিচ্ছেদের সঠিক সময় নয়।  যে পাখিটা প্রথম বাসা বেঁধেছিল আমার চিলেকোঠায় তার গল্প তো তুমি জানো কিন্তু তার  ছানাপোনারা এখনও পর্যন্ত আমার চিলেকোঠা ছাড়েনি। ডানা বড় হচ্ছে, উড়ে যাচ্ছে। আবার  তার বংশধরেরা এসে ডিম পাড়ছে। ছানাকে খাওয়াবে বলে মায়েরা কত রকমের পোকা নিয়ে এসে ঘরে ছেড়ে দিচ্ছে। তাদের সেসব উৎপাতের গল্পগুলো এখনও তোমার সাথে করা ব...

জলরঙ

Image
স্বপ্ন সুখ চেয়েছিল সারসটা স্বপ্ন দেখত বিস্তীর্ণ ফসলের চারপাশে যতদূর চোখ যায় উদ্ধত শস্যের শহর প্রহরী ঘুমিয়েছে, ঘুমিয়েছে লাঠিও শুধু আমি জেগে ঘুম আসে না বলে আমাকে ভয় পায়নি সারস নির্ভয়ে প্রশ্ন করেছে, খিদে বড় না স্বপ্ন? উত্তরে শূন্য মাটির একটি কলস দেখিয়ে  আমি তাকে বলেছিলাম তৃষ্ণা বড় স্বপ্ন বুনতে না উল লাগে না কাঁটা যার চোখে যত মাটি তার স্বপ্ন তত খাঁটি  

প্রেম ও কবিতা

Image
  অদেয় যদি পারতাম সোনা বাঁধানো পুকুর ঘাট আর হিরে বসানো পদ্ম দিতাম পারিনি বলেই না বিনে পয়সার শ্যাওলা পুকুর আর হৃদয়পদ্ম রেখে গেছি কখনও পশ্চিম আকাশে দুঃখ ঘন হয়ে এলে বিকেল বেরঙ হলে দুদণ্ড বোসো গিয়ে পাপড়ি গুলো রঙ ছড়ালে জানিয়ে দিও তোমার আগুন রঙ প্রিয়। স্বগতোক্তি সংবাদপত্রে তোমার ছবি দেখলাম ইদানিং সব ছবিই দেখি, খুঁটিয়ে, জুম করে চোখের নিচের কালোটা কতখানি বেড়েছে ঠোঁটের লাল কতখানি ধুয়ে দিয়েছে বৃষ্টি সব সব দেখি বারংবার কিন্তু তোমায় বুঝতে দেবো কেন? কেন বলবো দেখেছি! কেন বলবো তোমার মুখের প্রতিটা ক্ষয় আমাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দেয় আজও, আমার ঈশ্বর হাসবে না? বলবে না সব অনুভূতি দেখিয়ে দিলে ভিতরটা ফাঁকা হয়ে যায়। কার্যকারণ কারণ যাইহোক কার্যত তুমি আমার কাছে এসেছিলে, পৃথিবীর সবচেয়ে নির্বোধ গাছটাও সেদিন বুঝেছিল বসন্ত শুধু ঋতু নয় চোখের মায়াও। আমি প্রশ্ন করিনি ভেবেছি কারণ যাইহোক কার্যত তুমি আমার কাছেই এসেছ। তোমার মোটর গাড়ির চাকা ইঙ্গিতে বুঝিয়েছিল সকল উদ্দশ্যের গন্তব্য হয় না, ধুলোপথ ফিসফিস করে বলেছিল, সব আলোই ভালো না সব আঁধারই কালো না। আমি শুনিনি, বিশ্বাস করেছি কারণ যাইহোক কার্যত তুমি আমার কাছেই আসতে চে...

আধুনিক কবিতাগুচ্ছ

Image
রিপু জন্ম কোনও বিশেষ দিন নয় তবু মনে পড়ে সুযোগ পেয়ে আলো-আঁধারে কারা যেন ছিঁড়ে নিয়েছিল নাড়ি, সেদিন থেকে বিহ্বল আমি সূঁচ সুতো দীক্ষা নিয়েছি, গ্রহণ করেছি সেলাইবৃত্তি কঠোর অনুশীলনে জেনেছি রিপু যত নিপুণ হয় সূঁচ ততই খাদক হয়ে ওঠে। আকাঙ্ক্ষা আকাঙ্ক্ষিত  উঠোন চেয়ে রইলো শিউলি গাছের প্রস্ফুটিত শাখার দিকে লাজুক সাদা কমলা ফুলেরাও  চোখ নামিয়ে রাখল মাটির বুকে অথচ মূঢ় আমি, সাহায্য করতে যত বার গোড়ায় দাঁড়িয়ে ঝাঁকানি দিয়েছি ততবারই ফুলের পরিবর্তে ঝরে পড়েছে পাথর।  ছায়া মানুষ প্রিয় মানুষ, উচ্চাশা নেই তোমার কাছে কারণ দীর্ঘদিন আমার ছায়ার পাশে হেঁটে যায় আরও একটি ছায়া। ছায়াটি বক্র, খতিয়ে দেখলে বোঝা যায় বাঁট সমেত একটি ছাতা কেউ ধরে রেখেছে মাথার ওপর আর রোদ থেকে বেঁচে যাচ্ছি আমি। মাঝে মাঝে বৃষ্টি ভিজব সাধ হয়, অবিচ্ছেদ্য বাঁধন খুলে আদুল পা খুঁজে নেয় ঘাসের পিঠ। ঠিক তখনি পিছু পিছু দৌড়োয় ছাতা হাতে একটি ছায়া। প্রিয় মানুষ, উচ্চাশা নেই তোমার কাছে শুধু বলার ছিল গর্ব গভীর হলে অহং মনে হয়। দরিয়া থেমে গেছি মাঝ দরিয়ায় সামনে এলোমেলো ঢেউ, অচেনা পিছনে উন্মত্ত তরঙ্গ আমার চেনা জানা দুর্বার আকর্ষণে সামনের ঢেউগুলো টানে মন...

আবৃত্তির কবিতা - ৫

Image
 আবৃত্তির কবিতা মহামারী সংকটকাল আসন্ন প্রভু, এবার তো চোখ মেলো আমার শ্লেট ভেঙেছে সন্ধ্যাদি হাতের রেখায় কাঁচা কঞ্চির দশ ঘা সপাৎ সপাৎ অশ্রু পড়েছে টপ টপ জিদ বেড়েছে আরো জোরে তুমি তখন গভীর ধ্যানে শাস্তি দিলাম আমিই নিজে সন্ধ্যাদির সাধের বাগান গুড়িয়ে দিলাম এক নিমেষে  এরপর দুহাজার সালের বন্যায় ভেসে গেল বাবার  কাঁঠাল বাগান, ডুবে গেল বসতবাড়ি  আমিও সেদিন জলের তোড়ে ভেসেই গেলাম প্রাণ বাঁচলো কোনও ক্রমে, তুমি কিন্তু সেদিনও ধ্যানে।  বলল লোকে ডাকতে হবে নিষ্ঠা ভরে আমি ভাবলাম  আমারই বোধহয় নিষ্ঠার অভাব এবার কিন্তু কালাচ এসে বিষ মেশালো ভাতের থালা নীলচে হলো পৃথিবীর মানুষের আকাশ বাতাস গাছগাছালি এক খাবলে গিলে নিলো মহামারী ঘড়ির কাঁটা ঘুরেই গেল কক্ষপথে, মানুষ সকল বুঝে গেল তুমি ধ্যানস্থ তাই ঈশ্বর ভ্যানিস লেখা আসে না আজকাল। যা কিছু ছুঁয়ে দিই তরল হয়ে গলে পড়ে। ধোঁয়ার মতো উবে যায়। ভাবলাম লিখতে যখন পারছি না তখন অন্তত সংসারটা গুছিয়ে নিই। যেই হাত দিলাম সংসারে অমনি কর্পূরের মতো উবে গেল আমার সাধের আলনা, প্রিয় শাড়ি, পুরোনো ঘড়ি, ওনার ঘামমাখা শার্ট। এমন কি অন্তর্বাসগুলোও বর্ষার মেঘেদের সাথে মিশে ...