এখন বিচ্ছেদের সময় নয় আমার কোন ফুল প্রিয় তোমাকে বলা হয়নি তাই এখন বিচ্ছেদের সঠিক সময় নয়, চাকরি পেলে প্রথম দিন কি রঙের শাড়ি পরে স্কুলে যাব ঠিক করা হয়নি তোমার সাথে তাই এখন বিচ্ছেদের সঠিক সময় নয়। আমি নদী ভালোবাসি। আমার প্রিয় নদী দামোদর, তোমাকে বলা হয়নি। গঙ্গা তীরে বাস করলেও গঙ্গা দেখে আমি সুখ পাই না, আমার মনে হয় গঙ্গা নিজেই একজন সুখী নদী। জোয়ার-ভাটা, টলমলে জল, কত স্নানার্থী, পূন্যার্থীর ভিড়, কত পাপ পুণ্যের হিসাব। গঙ্গার ভীষণ মাহাত্ম্য, সে গরবিনী। একলা থাকার, দুঃখ পাবার তার সময় কোথায়! কিন্তু দামোদর দেখলে বুকের ভেতরটা হু হু করে ওঠে। ছোটবেলায় দেশের বাড়ি আমি দামোদর তীরে কাটিয়েছি বহুদিন সেসব গল্পও তোমার সাথে করা হয়নি তাই এখন বিচ্ছেদের সঠিক সময় নয়। যে পাখিটা প্রথম বাসা বেঁধেছিল আমার চিলেকোঠায় তার গল্প তো তুমি জানো কিন্তু তার ছানাপোনারা এখনও পর্যন্ত আমার চিলেকোঠা ছাড়েনি। ডানা বড় হচ্ছে, উড়ে যাচ্ছে। আবার তার বংশধরেরা এসে ডিম পাড়ছে। ছানাকে খাওয়াবে বলে মায়েরা কত রকমের পোকা নিয়ে এসে ঘরে ছেড়ে দিচ্ছে। তাদের সেসব উৎপাতের গল্পগুলো এখনও তোমার সাথে করা ব...
একটাই জীবন একটাই জীবন তুমি পাশে থাকলে হাসি খুশি দ্রুত কাটবে, উৎসবে খুব সাজবো, হৈ হৈ করে হাসবো, অনেক ছবি তুলবো, একটাই জীবন তুমি পাশে থাকলে মনের সব কথা প্রাণ খুলে তোমাকেই বলবো, জীবনে পূরণ না হওয়া স্বপ্নগুলো কল্পনায় বুনবো। একটাই জীবন তুমি পাশে না থাকলে কি আর করবো! রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে সকালে দেরি করে উঠবো। উৎসবে সাজবো ঠিকই কাজল পরতে গিয়ে চোখের কোণ মুছবো। ছবি তুলবো, জুম করে নিজের ছবি নিজেই বার কয়েক দেখবো। প্রাণের কথা কাউকে আর বলবো না, কথা বলতে ইচ্ছে করলে চুপ করে আকাশ পানে চাইবো একটাই জীবন তুমি পাশে না থাকলে স্বপ্ন দেখা ভুলে কঠোর বাস্তবে বাঁচবো। একটাই জীবন তুমি পাশে না থাকলেও কেটে যাবে, কেটে যায়! সাঁঝ..
লক্ষ্মী ঝাঁপির ধান চোখ উপছে ভেসে গেছে স্বপ্নের নাও আমি নিরুপায় চেয়ে থেকেছি, এ বিপুল স্রোতের মুখোমুখি হওয়ার মতো কলজে আমার নেই! তোমার ফেলে যাওয়া পথে আমি হাঁটতে পারিনি কোনোদিন! তোমার পদচিহ্ন আঁকা সকল ধুলো যেন আমার লক্ষ্মী ঝাঁপির ধান বলো, কিভাবে মাড়াই?
পলল পললের ভিতর এখনও জীবন বেঁচে, পাথর হয়নি প্রাক্তন। সমুদ্রের অতলে সকল অতীত এলোমেলো পড়ে আছে, তোমাকেই সাজিয়ে নিতে হবে শঙ্খ-ঝিনুক, আমার মতো সেতু শুধু পথ জুড়ে দেয় আর চেয়ে চেয়ে জল দেখে। খেলনা মানুষের মন অদ্ভুত! প্রিয় খেলনা হাতে পেলে প্রথম প্রথম যত্ন করে খুব, এমন কি খেলতেও চায় না পাছে ধূলো লাগে। তারপর প্রাণভরে খেলা শুরু করে, খেলা শেষ হলেও বুকে জড়িয়ে রাখে, কাউকে ছুঁতে দেয় না। তারপর হঠাৎ একদিন নিজেই আছাড় মেরে ভেঙে ফেলে, টুকরো গুলো পড়ে থাকে এদিক ওদিক। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে এমন এক দক্ষ খেলোয়াড় লুকিয়ে, যারা খেলে আর ভাঙে। ব্যতিক্রমিরা, অদক্ষরা খেলতে জানে না! আজীবন সকলের অলক্ষ্যে সযত্নে তুলে রাখে প্রিয় খেলনাখানি, অবসরে নামিয়ে ধূলো ঝাড়ে, হাত বুলিয়ে আদর করে ফের তুলে রাখে সিন্দুকে, মৃত্যুর পর ওর ভিতরেই অমর অনুভূতিগুলি জমা রেখে যাবে বলে। সাঁঝ..
বৃষ্টি কুঁড়িগুলো এবার ফুটবে ফুটবে দিগন্তে সূর্যটা সজল হয়েছে আমি চললাম দূ্র, ঝাপসা পথে আষাঢ়কে পথ চিনিয়ে আনবো বলে তুমি মাছ ধরতে যাওয়ার আগে বর্ষাতি নিও গতবার বৃষ্টিতে ভিজে সে কি বাড়াবাড়ি ! একটানা তিন দিন জ্বর জ্বরের ঘোরে ভুল বকছিলে, বার বার শুধু একটা নাম, মালবিকা আমি সুজানদের ঝিঙে মাচার পিছনে লুকিয়ে শুধু কেঁদেছি জানি না এই মালবিকা কে? জ্বর সেরে যাওয়ার পর তুমি আর কখনো এই নামটা মুখে আনোনি কিন্তু আমার ভয় করে পাছে আবার তোমার জ্বর আসে ! সেই থেকে তোমাকে তোলা কাপড়ের মতো আগলে রাখি জানি একমাত্র জ্বর ছাড়া কেউ তোমাকে আমার থেকে দূরে নিয়ে যেতে পারবে না
'ভ' ছোটোবেলায় 'ভ' শিখতে আমার অনেক বেশি সময় লেগেছিল। আবছা মনে আছে প্রথমে 'অ' লিখে আগে তার হাতল মুছতাম তারপর গলার কাছটা মুছে উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। এইভাবেই শিখেছি 'ভ'। এখনও পর্যন্ত 'বর্ণপরিচয়' বই এর মতো সুন্দর করে 'ভ' আমি লিখতে আমি শিখিনি। শুধু চিনেছি বর্ণটাকে। সরলার্থে জেনেছি 'ভ' মানে ভয়, 'ভ' মানে ভালোবাসা ; মর্মার্থে জেনেছি, ভালোবাসাতে ভয় কিংবা ভালোবাসা হারাতে।
নদীটা ছিল গোরুর ডাবা, নৌকোটা কাগজের চাঁদটা ছিল পুরি থেকে কেনা অ্যালুমিনিয়ামের বাতিল ডিশ, তবু জ্যোৎস্না দিত এই ছিল পুতুলঘর ওটা আসলে পরিত্যক্ত গোয়াল গোরু মরেছে কবেই, তখন শুধু ঘুঁটে থাকতো আর থাকতো এক স্বভাব কবি খড়ের রঙ , ঝড়ের শব্দ , মাটির ডাক ব্যাকুল হলেই শুনতে পেত আজ আর আসল চাঁদেও জ্যোৎস্না নেই সত্যি গাঙে নৌকো নেই, মাটির নিজের কন্ঠ নেই জানি না, পুতুলঘর কেন বসত ঘরের চেয়েও ভালো!
ভাল
ReplyDeleteদুর্দান্ত অনুভূতিশীল কবিতা। প্রতিটা লাইন একেকটি করে 'Statement' দেয়। খামের মুখটা খুলুন, হয়তো আরো অনেক নতুন সুন্দর কবিতা জন্ম নেবে।
ReplyDelete