Posts

Showing posts with the label প্রেমের কবিতা

প্রেমের কবিতা - ১২

Image
১. হয়তো বৃষ্টি শব্দ হয়নি একটুও কিন্তু ঘাস ভিজেছিল প্রেইরীর ছায়া জড়ানো আদরগাড়ি, নিঝুম চাকা দেখে জুনের দুপুর বলেছিল, আদর খাবি? ২. এদিকে প্রকৃতি এখনও নির্মল দূষণ পারেনি ছুঁতে মানুষের জন্মদিন আমার প্রিয় নদী কুন্তি কি অচিরেই অর্থের সংকোচ ঘটিয়ে নালা হয়ে গেছে তবু বিশেষ দিনে কাঁচজলে ঢেউ ওঠে পালকির মতো দুলে ওঠে পারের সবুজ আমাকে মনে করাই জন্ম হয়েছিল যার বহুদিন আগে, আজ তার জন্মান্তরের দিন  

প্রেমের কবিতা - ১১

Image
চৌকাঠ তুমি কখনো চৌকাঠ দেখোনি তোমার গ্রামের কোনো ঘরে চৌকাঠ নেই তুমি দেখেছ নগ্ন শরীরের বাতাবরণ সেই আবহাওয়া তোমার ফুসফুসে গ্যাস বেলুনের মতো পুরে দিয়েছে দুঃসাহস তাই তুমি অনায়াসে ইচ্ছের নাম দিয়েছ শুদ্ধতা আমি কিন্তু প্রশ্রয়ের অপর নাম পাপ বলে জানি রাংতার প্রলেপ আমার স্বামী সপ্তাহান্তে ব্যাগভর্তি ভয় আনে শ্বাসমূল উপড়ে লড়াকু বৃক্ষটার দিকে ছুঁড়ে দেয় কঠিন চ্যালেঞ্জ বিশ্বাস করো বাস্তুতন্ত্র বদলে যায় এ ভয় শ্রাবণের ত্রিস্রোতা নদীর মত পাংশন আমাকে ক্লান্ত করে কিন্তু বিবর্ণ নয় আমার শরীরে তোমার প্রলেপ                                     যেন ঝলমলে রাংতা কাঁটাগাছ আমার স্বপ্নে অসংখ্য কাঁটাগাছ স্বর্গ-মর্ত্য-পাতালব্যাপী অধিকারের ডঙ্কা বাজায় আমার ভয় করে, তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয় আমি ছুঁড়ে দিই কাটারি ঘুমের মধ্যে রক্ত ঝরে বৃষ্টির মতো, প্রতিটা রক্তবীজে                                 জন্ম নেয় লক্ষ লক্ষ কাঁটা...

প্রেমের কবিতা - ১০

Image
সংলাপ বৈতরিণী : রাতের বেলা ডুমুরদহ গিয়েছ কখনও? ওখানে অন্ধকার বড় সরল। পা রাখা মাত্রই কালো জল তোমাকে ডুবিয়ে দেবে। প্রবুদ্ধ : খামোকা অন্ধকারে যাবো কেন? আমার চারিদিকে কারা শুধু সকাল ফুটিয়ে রেখেছে। তাছাড়া একটা দীর্ঘ প্যাঁচানো গান প্রাচীরের মতো আমায় ঘিরে রাখে, আমি কিছুতেই আলোর সীমানা ছাড়িয়ে বের হতে পারি না। বুঝতে পারি না এত আলো কোন কাজে লাগাবো! আলো বড় অসহ্য। ইট কাঠ সুড়কি সব স্পষ্ট দেখা যায়। বৈতরিণী: 'প্র' এই জাগতিক নিয়ম বড় নিঠুর গো! যার যা চাই না, পৃথিবী তাকে তা জোর করে দিয়েই ছাড়বে। এক কাজ করো তোমার উদ্বৃত্ত আলোটুকু আমাকে দাও। আমার চেনা বহু মানুষ গভীর আঁধারে ডুবে আছে। ওদের জন্য চশমা বানাবো। দুচোখে আলোর ঠুলি পরে ওরা সমস্ত জীবনের আঁধারের বুকে পেরেক ঠুকে দেবে। প্রবুদ্ধ : 'বৈ' তুমি আমাকে নির্ভার করলে! সার্থক নাম তোমার। আমার আলোক থেকে সমস্ত ঝলকটুকু ছেঁকে নিও, বিনিময়ে তোমার স্তনের মতো নরম ঋজু আঁধারে ভরিয়ে দিও আমায়। আলোতে আঁধার মিশলে তবেই ছায়া হয়, মায়া হয়। বৈতরিণী : 'প্র' যতবার তোমার কাছে আসি অদ্ভুত লাগে জানো! তোমার ভাবনাগুলোর নিজস্ব আকাশ আছে। আমি তোমার মতো কর...

প্রেমের কবিতা - ৯

Image
একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা জলের চেয়ার জল থেকে ছেঁকে নিয়েছি সমস্ত ডুবে যাওয়া                                                ভেসে যাওয়া দোষগুণ নির্বিশেষে জল এখন শুধুই তরল বেদের মেয়ে জ্যোৎস্নাকে কেউ ব'লো কলসি আর ভাসবে না গাঙে দেখা করার অন্য অজুহাত খুঁজতে ইচ্ছে করলে তুমি চেয়ার পেতে বসতে পারো জলে যেভাবে পড়ার টেবিলে বসো, চিৎকার করে মুখস্থ করো বাসি পড়া পরখ করো, জল নড়বে না এতটুকু ভয় দেখাবে না একদম অনেক হয়েছে, এবার শান্ত হও তুমিও আর তোলপাড় ক'রো না জল চাবুক চালাতে হয় তরলে নয় পাথরে চালাও  সীমান্তে যে ছবিটা ভারত-বাংলাদেশের সীমান্ত ছুঁয়েছিল যে ছবিটা কাঁটা তারে ফুল ফুটিয়েছিল যে ছবিটায় লুকিয়েছিল একমুখ না কামানো দাড়ি চোরা পথে বর্ডার ডিঙিয়ে দেশ বদলের রহস্য‌ যে ছবিটায় দুটো ঠোঁটের মাঝে একফালি আকাশ তোমার সেই ছবিটাই ঈদের দিনে সূর্য ডুবেছিল ‌ তোমার সেই ছবিটার জন্য আমি একটা কাঁচের ফ্রেম কিনেছিলাম। ছবিটা যে জ্যান্ত ছিল বুঝতে পারিনি, বালিশের তলা থেকে মাঝ...

প্রেমের কবিতা - ৮

Image
পথের ধারাপাত প্রেম, তুমি কেবল প্রবেশ পথেই তোরণ বসিয়েছ প্রস্থানের পথ জঙ্গলাকীর্ণ প্রবেশ করেছ মসৃণ, গেঁথেছ ফুলের শামিয়ানা প্রস্থানে কাঁটাগাছ সংসারী, ঝরাপাতা উপসী পশুদের আস্তানাও মৃত গরীবের ইষ্ট দেবতা বড় ক্রূর                              নেউল পোষে শোবার ঘরে ওই পথেই ফিরতে হবে ওরা কি বিনা রক্তে  যুদ্ধ শেষ করবে?

প্রেমের কবিতা - ৭

Image
মুগ্ধতা তোমাকে যতবার দেখি বন ঘন হয়ে আসে, সবুজ হয়ে আসে                                        প্রথমবারের চেয়ে তোমাকে যতবার দেখি মুগ্ধতার পুনরাবৃত্তি এতো বার দেখা করো না একদিন নিযুত ছাড়িয়ে যাবে মুগ্ধতা বন ঘন হতে হতে পৃথিবী শুধু গাছেদের মা হয়ে যাবে

প্রেমের কবিতা - ৬

Image
এক গুচ্ছ প্রেমের কবিতা ১. এখন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি ধর্ম আর আমাদের ধারণ করে না ধর্ম শুধু শেখায় বিধর্মীকে ঘৃণা করো অধর্ম বলে কিছুই হয় না পৃথিবীতে অর্থের সংকোচ হতে হতে ধর্মের বিপরীত শব্দ বিধর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু প্রেমটাকে তো বাঁচাতে হবে ও বড় নরম, খরগোসের মতো তুলতুলে শরীর দেখো, যেন কষাই এর নজর না পড়ে ২. প্রতিবার শ্লথ হয়ে আসা ইঞ্জিনের মতো রি রি আওয়াজ করতে করতে এসেছ তুমি আমি তাই তোমার পায়ের আওয়াজ আলাদা করে চিনে রাখতে পারিনি, যা চিনেছি তা ওই কাঁপতে থাকা ইঞ্জিনের বার্ধক্য জনিত শীতকাল। ৩. বিনিদ্র চোখ জানে ঘুম এলেও স্বস্তি নেই চোখের পাতায় জাল ফেলে কারা যেন ছেঁকে নেয় আমার দুঃখপোনাগুলো..

বাতাস পুরুষ

Image
আজকাল দেশ রাজ্যের খবর রাখা হয় না ভিতরবঙ্গের ডুয়ার্স আর তরাই নিয়েই ভরে থাকি তুমি এখন অফিসে, অন ডিউটি বোধহয় টেবিলে হাত রেখে শীতের রোদ আর পাহাড়ের দিনগুলোর কথা ভাবছো বোধহয় বললাম কারণ তুমি ভীষণ অলস তবে আমি নিশ্চিত, এই মুহূর্তে তুমি আমাকেই ভাবছো কারণ আমার হাত থেকে ঘন ঘন বাসন পড়ছে আমিও নদীতে ছিপ ফেলেছি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে অপেক্ষা করছি কখন ফতনা নড়ে উঠবে। তোমার চোখের তারা গঙ্গার মতো ঘোলাটে কিছুতেই গভীরে দেখা যায় না ভাটার সময় দেখলে মনে হয় গঙ্গা গৃহী অথচ জোয়ারে দেখলে মনে হয় যাযাবর জোয়ার এলে তোমাকে বাতাস-পুরুষ মনে হয় ভাঁটায় তুমি গৃহপালিত পুঁইডাঁটা তবে সময় জাদুকর ঘড়ির কাঁটা পরিণত হলে পুঁইডালেও জমাট বাঁধে লোহিত কনিকা।

প্রেমের কবিতা - ৫

Image
ব্যক্তিগত নদীর ছায়া আমার মুখের ওপর ঝুঁকে তোমার মুখ দুলে যায় স্রোত ফুঁড়ে উঠে আসে জলদানো ভয় পাই প্রায় আধ ডুবো নৌকা তবু ভাসি শূন্য ঘাট নিকটস্থ ছায়াদের ছাড়াছাড়ি সব শেষে ২. আমার ভ্রমণ ব্যক্তিতন্ত্রে বাস্তুতন্ত্রে এর ওর জগৎ, কবি কবিতা, স্বপ্ন স্বপ্নভঙ্গ রহস্যময় প্রফাইলগুলো, ভিতর ঘরের ক্ষতগুলোর কবরস্থান, যা অক্ষত রাখতে পারিনি আমি। ৩. স্বাভাবিক সম্পর্ক স্বাভাবিক বাঁধের মতো আকৃতি যেমনই হোক আটকায় তো জলই অথচ বইতে পারায় জলের ধর্ম মানুষ কি কখনও বুঝবে না, হিংসে জমাতে জমাতে সে জলকেও বিধর্মী করেছে !

প্রেমের কবিতা - ৪

Image
প্রেম ও পথ আজ সাড়ে তিনশো বছর এই সিটটা দখল করে আমি বসে আছি একটুও বদল নেই বর্ধমান জংশনের প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ভিড় ঠেলে একলা হতে চাওয়া প্রতিটা বিবাগি মানুষ স্বছন্দে আটচালা নির্মান করেছে শিকড় বিছিয়ে দিয়েছে মাটির রন্ধ্রে কেউ জানতে চায়নি আমার প্রেম ও পথের নাম তবু আমি বলে গেছি তোমার পায়ের পাতায় আমার জলছাপের গল্প শুধু বদলে গেছে অপেক্ষার ঘড়িটা আর প্ল্যাটফর্মের মাটি ছুঁয়ে বেরিয়ে যাওয়া ট্রেনগুলির নাম  স্টেশন মাস্টারের ঘর থেকে ঝাঁসিগামী 'প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম এক্সপ্রেস' নামটা উচ্চারিত হলো আমার মনে পড়লো, তুমিও লক্ষীবাঈকে ভালোবাসতে নিঃসন্তান নারী বুক দিয়ে আগলে রাখতে চেয়েছিল ঝাঁসি, তুমি প্রাণপন করেছিলে সেই নারীকে পূর্ণতা দিতে আমি তখনও এই সিটটা দখল করেই বসে ছিলাম 'বোলপুর কবিগুরু এক্সপ্রেসে'র খবর হলো আমি এক নিমেষে তোমার বুক ছুঁয়ে পৌঁছে গেলাম খোয়াই এর তটে বনময়ূরীর পালকের ফাঁকফোকর দিয়ে তাকালে দেখা যাবে শান্তিনিকেতনে এখন শীত এসেছে কুয়াশারা রোদে পিঠ দিয়ে চুল শুকোচ্ছে লালমাটির ক্ষয়ীভবন, খোয়াই এর অগ্নিপরীক্ষা, নোবেল চুরি এসব ঘটনা প্রবাহ পৃথিবীর স...

প্রেমের কবিতা - ৩

Image
ডাক ডেকেছি বার বার তার মানে এই নয় যে প্রয়োজন ছিল খুব , 'ডাকতে আমার ভালো লাগে' কিন্তু, বোবা পৃথিবীর সম্রাট তুমি কোনো ডাককেই তোয়াক্কা করা তোমার অন্তত সাজে না মাথার ওপর ওই মুকুট সেও তো পেয়েছো,  শত সহস্র ডাককে উপেক্ষা করেই উঁচু মিনার থেকে যে বিজয় পতাকা উড়িয়েছো, সূর্য ডুবলে রক্তের মতো দেখায় সেও তো পাষাণ হতে পেরেছো বলেই সাড়া দেওয়া তোমার ধর্ম নয়, তোমার ধর্ম কেবল অন্ধ প্রতিপালন আর প্রভুত্ব অনুভূতির ওপর জুলুম করা বুঝি তোমার উল্লাস? আমি মানি না এমন সম্রাট, ঝুটা মুকুট কলজের জোর থাকলে বন্দি করো আমায় নয়তো ডেকে যাবো বারে বারে,                                            রব -- রব -- রব দেখি, কত দিন তুমি পাথ‍র হয়ে থাকো ! কক্ষনো এসো না রব, তুমি আসবে ভাবতেই ভাসমান লজ্জারা বার বার মেঘে ঢেকে দেয় আমার চন্দ্রবিন্দুর চাঁদ ভয়েরা বুকের গোপন কুঠুরিতে অনুশীলন করে অস্ত্রবিদ্যা, প্রতি পদক্ষেপে ভুল করে তলোয়ার আঘাতে আঘাতে রক্তাক্ত হয় শরীর আমার দুঠোঁটের মাঝখানে একফালি আকাশ যেখানে ভোরে...