Posts

কবিতা

 উদ্বায়ী স্বপ্ন প্রতিদিন শিখি নতুন কিছু প্রতিদিন ভাঙি টুকরোতে বুকের মাঝে ধ্বস নামে, বান আসে চোখের মাঝে প্রবল ভালোবাসার নামে খামে পুড়ে উদ্বায়ী স্বপ্ন দিয়েছিল কেউ খামের মুখ খুলো না, ওটা খুলতে নেই!

জীবনের কবিতা

Image
একটাই জীবন একটাই জীবন তুমি পাশে থাকলে হাসি খুশি দ্রুত কাটবে, উৎসবে খুব সাজবো, হৈ হৈ করে হাসবো, অনেক ছবি তুলবো, একটাই জীবন তুমি পাশে থাকলে মনের সব কথা প্রাণ খুলে তোমাকেই বলবো, জীবনে পূরণ না হওয়া স্বপ্নগুলো কল্পনায় বুনবো। একটাই জীবন তুমি পাশে না থাকলে কি আর করবো! রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে সকালে দেরি করে উঠবো। উৎসবে সাজবো ঠিকই কাজল পরতে গিয়ে চোখের কোণ মুছবো। ছবি তুলবো, জুম করে নিজের ছবি নিজেই বার কয়েক দেখবো। প্রাণের কথা কাউকে আর বলবো না, কথা বলতে ইচ্ছে করলে চুপ করে আকাশ পানে চাইবো একটাই জীবন তুমি পাশে না থাকলে স্বপ্ন দেখা ভুলে কঠোর বাস্তবে বাঁচবো। একটাই জীবন তুমি পাশে না থাকলেও কেটে যাবে, কেটে যায়! সাঁঝ..

বিষণ্ণতার গল্প

Image
বিষণ্ণতার গল্প একটা বিষণ্ণ সন্ধে আর কিছু ভুঁইফোড় মন খারাপ এইটুকুই সম্বল! মাঝে মাঝে ভাবি আমি কি বরাবর এমনটাই ছিলাম? নাকি প্রিয় মানুষের বুকের ভিতর ডুবতে গিয়ে সেই অতলেই রেখে এসেছি সকল মণি -মুক্তো! এই প্রশ্ন বরাবর ছুঁড়েছি নিজের দিকে। উত্তর মেলেনি, শুধু একটা চাপা কান্না ঘুরপাক খেয়েছে লাট্টুর মতো। আমি কি চাই জানি না! নিতান্তই একমুঠো অন্ন পেলে যার দিন চলে যায় অনায়াসে তার কাছে বাকি সব চাওয়ায় যে বিলাসিতা! তবু কোথা থেকে ঘুরে ফিরে আসে এই পরগাছা মন খারাপ, আমাকে জড়িয়ে নেয়! যতবার কারণ খুঁজতে গেছি খেই হারিয়ে ফেলেছি তাই আজকাল আমিও জড়িয়ে নিই তাকে, শূন্য বুক না হয় ভরে থাকুক বিষাদেই! সাঁঝ..

প্রেমের কবিতা

  পলল পললের ভিতর এখনও জীবন বেঁচে, পাথর হয়নি প্রাক্তন। সমুদ্রের অতলে সকল অতীত এলোমেলো পড়ে আছে, তোমাকেই সাজিয়ে নিতে হবে শঙ্খ-ঝিনুক, আমার মতো সেতু শুধু পথ জুড়ে দেয় আর চেয়ে চেয়ে জল দেখে। খেলনা মানুষের মন অদ্ভুত! প্রিয় খেলনা হাতে পেলে প্রথম প্রথম যত্ন করে খুব, এমন কি খেলতেও চায় না পাছে ধূলো লাগে। তারপর প্রাণভরে খেলা শুরু করে, খেলা শেষ হলেও বুকে জড়িয়ে রাখে, কাউকে ছুঁতে দেয় না। তারপর হঠাৎ একদিন নিজেই আছাড় মেরে ভেঙে ফেলে, টুকরো গুলো পড়ে থাকে এদিক ওদিক। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে এমন এক দক্ষ খেলোয়াড় লুকিয়ে, যারা খেলে আর ভাঙে। ব্যতিক্রমিরা, অদক্ষরা খেলতে জানে না! আজীবন সকলের অলক্ষ্যে সযত্নে তুলে রাখে প্রিয় খেলনাখানি, অবসরে নামিয়ে ধূলো ঝাড়ে, হাত বুলিয়ে আদর করে ফের তুলে রাখে সিন্দুকে, মৃত্যুর পর ওর ভিতরেই অমর অনুভূতিগুলি জমা রেখে যাবে বলে। সাঁঝ..

বাংলা কবিতা

                       বাংলা কবিতা প্রহরী পৃথিবী ঘুরছে না অনেক দিন ধরে, কথাটি সবার প্রথম কোপারনিকাসকে জানালাম, উনি মানতে চাইলেন না, বললেন অসম্ভব, ঝুটা খবর। তারপর গ্যালিলিওকে বললাম, উনি বললেন, "আমি এখন খুব ব্যস্ত, এবার কাছের জিনিসকে দূরে পাঠাতে হবে। দূরত্ববীণ আবিষ্কার করছি। ফর্মূলা রেডি কিন্তু কিছুতেই সরছে না বিষাদ, দুঃখদানি গুলো ভরে আছে নিশিফুলে। আমি বললাম, পৃথিবী যে গোঁয়ার্তুমি করছে, সে খবর কেউ না। গ্যালিলিও বললেন,  দূরবীণে চোখ রাখো। দূরবীণে চোখ রাখলে নলের ভিতর থেকে একটা সাপ আমাকে ছোবল মারতে আসে, আমি মুহূর্তে চোখ সরিয়ে নিই।  গ্যালিলিও চুপ, কোপারনিকাস চুপ কেউ শুনছে না আমার কথা, ভাবছে ভুল বকছি কিন্তু আমি যে লক্ষ করেছি অনেকদিন ধরেই পৃথিবী বসে আছে জলার ধারে শ্মশানের ফাঁকা জমিটিতে। কেন যে মানুষ টের পায় না! আমরা না সজাগ হলে ও হয়তো জলার মৃদু মন্দ শীতল বাতাসে একদিন ঘুমিয়েই পড়বে। অজাত আমার হৃদপিণ্ডের ভিতর একহাঁটু জল। ঠিক ব্যাঙাচির মতো দেখতে একখানি কবিতা রোজ পোকামাকড় খাচ্ছে আর ফুলে ফেঁপে উঠছে। আমি অনুভব করছি আমি বদলে যাচ্ছি এক...

প্রেমের কবিতা

 সহজ ঘুম রাত গভীর হতেই বৃষ্টিরা শুয়ে পড়লো, ওদের ঘাসের বিছানা ঘুম এলো সহজে। বৃষ্টিরা কথা রেখেছে ছুঁয়েও দেখেনি নদীর বুক, টেনে দেয়নি নদীর গায়ে ছাপা ফুলের চাদর। নদীও ক্লান্ত, দিনরাত বইতে হয় সংসারের জল তাই তার রাতই আসে দচোখে ঘুম নিয়ে বৃষ্টি ঘুমালো, নদী ঘুমালো কিন্তু একটা ঘাস ফড়িং কী করবে? ঘুম এলো না কিছুতেই ! ঘাসের শাখাপ্রশাখায় উড়ে বেড়ালো, সারা রাত সে ধান রুইলো, খুব পরিশ্রম করলো তবুও ঘুম এলো না। ঘাস ফড়িংটা জানে যাদের সহজে ঘুম আসে তাদের ওপর ভাগ্য দেবতা প্রসন্ন। ভারাক্রান্ত বসুন্ধরার হাতে মস্ত লাটাই পায়ের তলা থেকে গুটিয়ে নিচ্ছে মাটি ক্রমশ আমি সরে সরে যাচ্ছি সেই পথে অন্ধকার যে পথে বিছিয়ে রেখেছে বিষধর দংশক আলো ছোঁয়নি আমায়, ফিরিয়ে নিয়েছে মুখ অন্ধকারও দেয়নি আশ্রয়, ছিটিয়ে দিয়েছে থুতু তুমিই বলো, পথ                                  আমি কি এতই ভারি? কাল্পনিক ক্লান্তি কিছু দিন ঘোরে আছি, মানুষ মাটি সবকিছুর ছোঁয়া বাঁচিয়ে মানুষের ছবি দেখি ছাদ থেকে মাথাগুলো কালো কালো, মাটির শরীর দেখি টবের ভিতর দাসত্ব করছে প্রাণপণ এইটু...

ভাঙন

Image
ভাঙন ১. সময় ভেঙে দিলে নতুন করে গড়ে নেওয়া যায় যেমন নদী এক কূল ভাঙে অন্য কূল গড়ে। সবচেয়ে কাছের মানুষটি ভেঙে দিয়ে গেলে মানুষ টুকরো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে, আর কখনও নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারে না! আমৃত্যু ওই‌ ভাঙাচোরা টুকরোগুলো নাড়াচাড়া করে আর ক্ষত বিক্ষত হয়। ২. ভালোবেসে বেঁচেছিল যে সাদা পাখি সে এখন বহুদূর উড়ে গেছে কালো মেঘের ভিতর। তাঁর ডানায় লেপটে গেছে দিনান্তের অস্ফুট অন্ধকার!  ৩. ছায়া থেকে সরে যাচ্ছি সরে যাচ্ছি রোদের দিকে খাদের দিকে পিছু ডাক আসবে না জানি তবু পিছু টান রয়েই যায়।

লক্ষ্মী ঝাঁপির ধান

 লক্ষ্মী ঝাঁপির ধান চোখ উপছে ভেসে গেছে স্বপ্নের নাও আমি নিরুপায় চেয়ে থেকেছি, এ বিপুল স্রোতের মুখোমুখি হওয়ার মতো কলজে আমার নেই! তোমার ফেলে যাওয়া পথে আমি হাঁটতে পারিনি  কোনোদিন! তোমার পদচিহ্ন আঁকা সকল ধুলো যেন  আমার লক্ষ্মী ঝাঁপির ধান বলো, কিভাবে মাড়াই?

ভালোবাসা

  'ভ' ছোটোবেলায় 'ভ' শিখতে আমার অনেক বেশি সময় লেগেছিল। আবছা মনে আছে প্রথমে 'অ' লিখে আগে তার হাতল মুছতাম তারপর গলার কাছটা মুছে উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করতাম। এইভাবেই শিখেছি 'ভ'। এখনও পর্যন্ত 'বর্ণপরিচয়' বই এর মতো সুন্দর করে 'ভ' আমি লিখতে আমি শিখিনি। শুধু চিনেছি বর্ণটাকে। সরলার্থে জেনেছি 'ভ' মানে ভয়, 'ভ' মানে ভালোবাসা ; মর্মার্থে জেনেছি, ভালোবাসাতে ভয় কিংবা ভালোবাসা হারাতে।

চিরন্তন

চিরন্তন ১. মানুষ অনুভূতি থেকে যে কথা দেয় একদিন যুক্তির দ্বারা সে সমস্ত কথা ভেঙে টুকরো টুকরো করে দেয় তাহলে অনুভূতি কি খুবই আপেক্ষিক? যা সহজেই মরশুম বাতাসের মতো বদলে যায়! চিরকালীন বলে কিছুই কি নেই? ২. মানুষ ফুলের পাপড়ির মতো আলতো করে যে হৃদয় স্পর্শ করে, একদিন সেই বুকেই ধারালো কুঠার পুঁতে দেয়! এই নির্মম সত্য আমি সহজে জেনেছি। তুমিও একটা একটা করে জমানো সমস্ত পেরেক পুঁতে দিও আমার বুকের বামপাশে, আমি শব্দ করবো না! শুধু অনুরোধ, ওইখানেই তোমার যে ছবিখানি যত্নে রেখেছি এতকাল সেটিকে অবিকৃত রেখো।

অশ্রু সরোবর

 অশ্রু সরোবর ১. প্রচণ্ড ভিড়েও কি নিদারুণ একা হয়ে যায়! চারপাশে অজস্র মানুষ, কত আলো, কত হাসি তবু চোখ ছলকে ওঠে। অশ্রু গোপন করাও এক শিল্প, সকলে পারে না চোখ ভেঙে বেরিয়ে আসা জলকে ঝরতে না দিয়ে আবার চোখের মধ্যেই বিলীন করে দিতে। যারা এটা পারেন ঈশ্বর তাদের নামেই একটি চিরকালীন অশ্রু সরোবর লিখে দেন ! জানবেন দক্ষ মানুষেরা চিরকাল লৌকিকতার আড়ালে একটি টলমলে দীর্ঘশ্বাস চাপা রাখে। ২. জলন্ত সূর্যও একসময় নিস্তেজ হয়ে আসে নরম মোমের মতো গলে যায় প্রশ্রয় পেলে শুধু এ হৃদয় পোড়ে অনন্তকাল এক বিচ্ছেদে ; অশ্রু অন্তহীন! ৩. মৃত্যুর অপেক্ষায় পাথর সাজিয়েছি থরে থরে সুদৃশ্য পাহাড় তৈরী হয়েছে তবু মৃত্যু আসেনি অশ্রু দিয়ে একখানি ঝর্ণা গড়ে দিতে পারলেই আমার ছুটি এই নশ্বর পৃথিবী থেকে তুমি এই পাহাড়ের কোলেই ঘর বেঁধো সময় পেলে আর একবার ঝর্ণার জলে আমার পায়ের পাশে পা ডুবিও

সেলসম্যান

সেলসম্যান অলি গলি এপাড়া ওপাড়া পেরিয়ে অন্ধকার ঘুরপথে এসে দরজা ঠক ঠক করলো মিথ্যে, তুমি এক দৌড়ে কপাট খুললে, হাসি হাসি মুখে নিয়ে গেলে অন্দরে। স্কেলের মতো সোজা একহাত কংক্রীটের পথ পেরিয়ে সূর্যকে মাথায় নিয়ে এলো সত্য, একটানা কলিং বেল বাজালো অথচ তুমি দরজা খুললে না! বললে, 'সেলস ম্যান'! তবু অনন্তকাল নীরবে 'ও' দরজায় দাড়িয়ে রইলো তোমার জেগে ওঠার অপেক্ষায়।

সূর্যাস্তে

সূর্যাস্তে আমার অনিচ্ছেই বেলা বয়ে যায় সেতু পেরিয়ে ইচ্ছাময়ীর মন্দিরের চুড়োয় আমি থেমে গেছি বহুদিন, জ্যোৎস্না ভাঙা ঝর্ণার জলে আমার পায়ের পাশে যেদিন ডুবে গিয়েছিল শীতকাল তবু কোন ষড়যন্ত্রে গ্রীষ্মকালীন ফুল ফোটে, প্রতি সূর্যাস্তে বয়স বেড়ে যায়। আবাহন প্রিয় মানুষ ছেড়ে গেলে এমনকি মারা গেলেও প্রকৃতিতে কোনো বদল আসে না! সূর্য ওঠে অস্ত যায়, ফুল ফোটে ঝরে যায়, নদী বয়ে যায় মোহনার দিকে, সব নিয়ম মতো চলে! আমাদের জীবনটাই শুধু শূন্যস্থান পূরণের জন্য বৃথা হাহাকার করে মরে। সব শূন্যস্থান পূরণ হয় না  জেনেও মন ব্যথা পেতে বার বার কাঁটা বনে হেঁটে আসে। চিহ্ন বহুদিন ভেসেছিলে তুমি আমার চেতনাতে নরমটুকু ছুঁয়েছিলে কাঁটার মতো, ব্যথা হতো তবু টের পেতাম তুমি আছো আমাকেই বিঁধে শিকড় ছিঁড়ে কেউ উপড়ে নিল তোমায় আমার কেবল ব্যথার স্মৃতি রইলো জেগে। ভ্রম শব্দ জমাট বেঁধে পাথর আর কথা জমে পাহাড় হয়েছে তাই বহুদিন কবিতা নয় চলছে ঝর্ণা খোদাই পর্ব। উন্মুক্ত ঝর ঝর এসে বলে যায়, পতনের ব্যথাগুলো গুনতে শেখো, ওইটিই আসল অঙ্ক।

হেমন্তের দিনগুলো

  হেমন্তের দিনগুলো হেমন্তের দিনগুলো শোকময় যেদিকে তাকাই শুধু অনন্ত বিচ্ছেদ! আমিও কি বেঁচে আছি? টের পাই না আর জীবন আকুতি কবে কোন ধুলোয় মিলিয়েছে মনে নেই সে কথা! চোখগুলো মরা মাছের মতো নির্জ্বল পারলে তুমিই কানকো উল্টে একবার দেখে নিও জীবন বাকি আছে কি না! ছুটি হাত আলগা করে দিলাম যেতে পারো তুমি যতদূর চাও ক্লান্ত হলে নদীর ছায়ায় বিশ্রাম নিও আমিই পাশ দিয়ে বয়ে যাব নদী হয়ে তৃষ্ণা পেলে এক আঁজলা জল পান করে নিও। জীবন-মৃত্যু জীবন মৃত্যুর কিনার আমি দেখেছি দূর অবধি জল।, কোনো সাঁকো থাকে না শরীর মন এতটাই বাধ্য যেন পুতুল নাচের আসরআ পন পর কেউ কোত্থাও নেই। অদৃশ্য ঘড়ির দোলন, শশব্যস্ত কিছু ছায়া চলাফেরা করে। মাঝে মাঝে চোখ কপালে ওঠে বিকার আসে পুরোনো বিছানা খুঁজে খালি হাতে ফিরে যায়। শবদেহ বিয়োগ শিখছি নিরন্তর ছোটোবেলায় দাগ মুছে এখন শোক গিলে বিয়োগ বুজছি ভীষণ ভালো জীবন থেকে আয়ু মুছলে কি আর পড়ে থাকে? শুধুমাত্র শবদেহ! শালুক ফুল  মনে মনে একশো বার ডাকার পর তবেই তোমার জানলা অবধি আসতে পেরেছি, শালুক ফুল। কাঁপা কাঁপা গলায় অতি ক্ষীণ স্বরে তোমাকে একটি বার ডাকতে আমার যে কত লক্ষ বছর পার হয়ে যায় তা যদি টের পেতে, অ...

বৃষ্টি, নদী আর ঘাসফড়িং

বৃষ্টি নদী আর ঘাসফড়িং  বৃষ্টি আর নদী দুজন চিরকালের বন্ধু। রাত গভীর হতেই বৃষ্টি ঘুমিয়ে পড়লো। ওর ঘাসের বিছানা পাতা তাই ঘুম এলো সহজে। নদীও ক্লান্ত ভীষণ, ঘুমিয়ে পড়লো চেনা অববাহিকায়‌। বৃষ্টি কথা রেখেছে ছুঁয়েও দেখেনি নদীর বুক, টেনে দেয়নি ঘুমন্ত নদীর গায়ে ছাপা ফুলের চাদর।নদীকে দিন-রাত  বইতে হয় সংসারের জল তাই তার রাতই আসে দুচোখে ঘুম নিয়ে। বৃষ্টি ঘুমালো, নদী ঘুমালো। কিন্তু অলক্ষে একটা ঘাস ফড়িং জেগে ছিল ওর ঘুম এলো না ! ঘাসের শাখাপ্রশাখায় সে উড়ে বেড়ালো, ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়ালো সারারাত, খুব পরিশ্রম করলো তবুও ঘুম এলো না কিছুতেই। ঘাস ফড়িংটা জানে যাদের সহজে ঘুম আসে তাদের ওপর ভাগ্য দেবতা প্রসন্ন।

অশ্রুলতা

অশ্রুলতা বাঁধের গায়ে কোপ বাঁধ ভেঙে যায় অচিরে আমি গোপন করি চোখ, আগলে রাখি ঢেউ পাছে কোদালের দৃষ্টি পড়ে অশ্রুলতার  পবিত্রতা নষ্ট হয়। রক্ত পাথর রক্তকে জমাট বাঁধতে দিলে তার শোভা প্রবালকেও হার মানায়। আমার কন্ঠে যে হার দেখে তুমি অভিভূত হয়েছিলে প্রথমবার, বলেছিলে সুন্দর! সে তো প্রবাল নয় রক্তপাথর। সীমা ঘোষ দে

বিরামচিহ্ন

 বিরামচিহ্ন সেদিন সংক্রান্তি ছিল, আলো আবছা হওয়ার পর শব্দতরঙ্গে মিলিয়ে গেল শাঁখের ফুঁ। বনতুলসি বলল, "তুমি পবিত্র নারী তাই তোমাকে আমি গাছ বলেই ডাকবো" আমি সম্মতিসূচক ঘাড় নাড়লাম, আসলে মনে মনে অঙ্ক কষছিলাম, সব গাছেরই তো শাখাপ্রশাখা থাকে, আমার মতো কজন আর এক ডালে বাঁচে! সব ঘরেই উৎসব হয় তাই বলে সব উৎসব কি আর সব ঘরে কুলোয়? তুলসি তলায় প্রসাদ খেতে আসা লাল পিঁপড়েটা শুনে নিয়েছিল মনের কথা আহার ফেলে বলল, "অনন্ত এ পথ চলা, সব স্মৃতিই একদিন আবছা হয়" যে যাই বলুক আমি জানি, রোজকার এই চলমান পৃথিবীতে তার মুখ এক মুহূর্ত হলেও বিরাম চিহ্ন এঁকে দেয়! সীমা ঘোষ দে

নিম্নচাপের পর

  নিম্নচাপের পর টানা কদিন বৃষ্টির পর একদিন জল পড়া থামে। এমন দিনে ভেজা স্টেশন দেখলে আমার একটা নিম্নচাপের মুখ মনে পড়ে, যার দুচোখ নামানো ছিল ভেজা মাটির দিকে। দূরের মাঠ থেকে ভারী বাতাস এসে বেরোখা ছুঁয়ে গিয়েছিল বুকের বোতামগুলি, কেঁপে উঠেছিল নির্দয় গলাবন্ধ পর্যন্ত! বহু কিছু বলার থাকলে কথাহীন হয়ে যেতে হয় আমাদের। বিদায় নেবার পাশাপাশি আমার শেষবার জড়িয়ে নেওয়ার ছিল জীর্ণ চেকশার্টখানি। বৃষ্টি তখনও ফেরেনি, কাছাকাছি ওৎ পেতে ছিল হঠাৎ নির্বাক শূন্যের মাঝে সশব্দে নেমে এলো। ঝাপসা অন্ধকারে মেঘের ভিতর নিমেষেই আমাদের প্ল্যাটফর্ম বদলে গেল।

পৃথিবীতত্ত্ব

  পৃথিবীতত্ত্ব-১ আমি ঝুলে আছি আকাশ আর মাটির ঠিক মাঝখানে আছড়ে পড়তে ভয় পাছে ঝুলে থাকার আরাম নষ্ট হয় উড়তেও দ্বিধা যদি কখনও না মাটির দর্শন পাই আমি ঝুলে আছি বায়ুর বৃন্ত থেকে নিম্নমুখী আমার মাথা নুইয়ে পড়েছে অজাতশত্রুর অভিশপ্ত সিংহাসনের ওপর আমার চোখ থেকে জল নয় ঝরছে অস্ত্র বিরাট নখ দিয়ে আমি দুহাতে বায়ুস্তর খুঁড়ছি আমার প্রমাণ চাই                         একটা নয় দুটো নয় একগুচ্ছ যাতে লেখা আছে মানুষ পৃথিবীজাত অ্যামিবার নিকটতম আত্মীয়, যাতে লেখা আছে দেশ মানে শুধুই সহ-বাসস্থান। আমি ঝুলে আছি আমার মুঠো মুগুরের মতো দৃঢ়। তুমি পারবে না, তোমরা পারবে না তাই বলে আমিও কি ক্ষমতার জ্বলন্ত কপালে একটি স্নিগ্ধ চুমু দিতে পারবো না? পৃথিবীতত্ত্ব-২ পৃথিবী ঘুরছে না অনেক দিন ধরে। এই কথাটি সবার প্রথম কোপারনিকাসকে বললাম। উনি মানতে চাইলেন না, বললেন অসম্ভব, ঝুটা খবর। তারপর গ্যালিলিওকে বললাম, পৃথিবী একদম ঘুরছে না জানেন।  উনি বললেন, আমি এখন খুব ব্যস্ত, এবার কাছের জিনিসকে দূরে পাঠাবার 'দূরত্ববীণ' আবিষ্কার করছি, ফর্মূলা রেডি কিন্তু কিছুতেই সরছে না বিষাদ, দুঃখদ...

অভিমানের কবিতা

Image
অভিমানের কবিতা ১. বুকের ভিতর ধানঘর এখন শূন্য লাগে পাখি নাই ঊড়ে গেছে স্বধর্মে ক্ষুধা নয় আকাশ প্রিয় বলে ২. এমন দুর্দিনে আমার হাত খালি অভাবের কথা শুনে তুমি অন্ন বেড়ে দিলে হায়রে বুকের মাঝে জাপটে নিতে যদি বুঝতে ভাতের ক্ষুধায় অভিমান ভরে না! ৩. গুছিয়ে নেওয়া হবে না জীবন সুখের পায়রাকে ধান খাওয়াতে পারবো না আর! চাঁদ থেকে নেমে চরকা বুড়ি সারাদিন বুকের ভিতরখট খট শব্দ করে, ওকে থামাও! আমাকে ঘুমোতে হবে একমাত্র ঘুমোলেই ব্যথা কমে ৪. আবছা স্মৃতির ভিতর ঘুমিয়ে থাকুক তোমার পায়ের পাতার ওপর আমার হাত। একটা ধূসর পাহাড়, তার বাঁকে বাঁকে অশ্রুসজল দুখানি চোখ! ৫. এও এক কঠিন সময় যখন তুমি আমি একে অপরের নয় নিজের নিজের পথ সারাই করতে ব্যস্ত ৬. ডাক নাম থেকে উড়ে গেছে পায়রা শুধু পালক রয়েছে পড়ে তবু বলবো কখনও মুখোমুখি হলে ওই নামেই ডেকো ৭. এ বছর যতখানি বদলে গেছ তুমি ততখানিই মাটি কুপিয়ে আমি রবিশষ্য বুনেছি এখন দেখার তোমার বদলের রঙ খাঁটি নাকি আমার কুপিয়ে ফেলা মাটি!